Successful Blog

দাম্পত্য জীবনে সিদ্ধান্ত

জীবনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের একটি হচ্ছে বিয়ে। আর এ বিয়ে নিয়ে সবারই থাকে অনেক পরিকল্পনা। তবে সামাজিক প্রেক্ষাপটে অনেকেই নিজের সিদ্ধান্তে পরিকল্পনামাফিক বিয়ে করতে গিয়ে হিমশিম খান কিংবা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।
অনেকেই বিয়ে করতে চান না, নিজের মতো করে সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান। কারণ, তাঁদের মাথায় ঘুরতে থাকে বিয়ের পর একটার পর একটা লিস্ট তৈরি রয়েছে। আজ বিয়ে করো, কালকের মধ্যে সন্তান ধারণ করো, পরশু তাকে স্কুলে ভর্তি করো—এ রকমই পরপর প্রত্যাশার চাপ থেকে অনেকের মধ্যেই বিয়ে করব কি না, এ রকম একটি দ্বিধা মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে। তাতে একধরনের ভয় তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার, এর বেশির ভাগই বাইরে থেকে চাপানো একধরনের চাপ। এসব কিছু সামাল দেওয়ার জন্যই মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে—এই তিন বিষয়ই মানুষের জীবনে অজানা থাকে। তবে জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে মানুষ যতটা না ভাবে, বিয়ে নিয়ে তার চেয়ে বেশি ভাবে। আর এ বিয়ে আর বিবাহিত জীবন নিয়ে একেকজনের ভাবনা একেক রকম। কেউ বিয়ে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন, কেউ দেখেন নেতিবাচক হিসেবে। আমাদের সমাজব্যবস্থায় বিয়ে ব্যাপারটি কারও কাছে প্রকৃতিগত মানসিক, শারীরিক বা সামাজিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে একজন পুরুষ ও নারীর সম্পর্কের স্বীকৃত বন্ধন। বিয়েটা কারও কাছে যেমন ভয়ের কারণ, আবার কারও কাছে আনন্দের। সবকিছু নির্ভর করছে বিয়ে সম্পর্কটির ব্যাপারে কে কতটা শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্বশীল, তার ওপর। বিবাহিত জীবন কেমন হবে, তা নির্ভর করে স্বামী–স্ত্রী উভয়ের ওপর। এত কিছুর পরও আমাদের জীবনে বিয়ে একটি অন্যতম অধ্যায়। তবে জীবনের এ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টির শুরু করতে সামাজিক বা পারিবারিক চাপে পড়ে মনের বিরুদ্ধে বিয়ে করছেন না তো?

কম বয়সী মেয়েদের ভালো বর

জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হচ্ছে বিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মানুষই খুব সাবধানে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় বেশিরভাগ মানুষই বিয়ের পরে পরিবর্তনগুলি সম্পর্কে অবগত থাকেন না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই বিয়ের পর সমস্যায় পড়তে হয়।

সম্পর্ক মজবুত করতে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রেমের সম্পর্কের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখলে দাম্পত্য জীবন সফল ও সুখী থাকে। তাই নিজের মধ্যে কিছু পরিবর্তন আনলেই সমস্যার সমাধান হতে পারে। চলুন জেনে নেয়া যাক বিষয়গুলো-

ভুল মেনে নিতে হবে: কিছু মানুষ ভুল করেও কথায় অটল থাকেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই মানুষের এই অভ্যাসটি সম্পর্ককে ছাপিয়ে যেতে থাকে। এ ক্ষেত্রে সঠিক কারণ ছাড়া সঙ্গীর সঙ্গে তর্ক করা চলবে না। নিজে ভুল করার পরেও সঙ্গীর সঙ্গে তর্ক করলে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তাই ভুল বুঝতে পেরে সঙ্গীর কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি শেষ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেবেন না: বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে একে অপরকে বোঝা খুবই জরুরি। শুধু একে অপরের পছন্দ-অপছন্দ জানাই যথেষ্ট নয়। সেজন্য সঙ্গীর অভ্যাস, জীবনযাপন ও আচরণ বুঝে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়াই ভালো।

খারাপ অভ্যাস বদলাতে হবে: বিয়ের আগে কারও কারও অকারণে ঝগড়া, গালিগালাজ বা অপমান করার অভ্যাস থাকে। কিন্তু বিয়ের পর এই অভ্যাস সঙ্গীকে কষ্ট দিতে পারে। তাই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে এসব অভ্যাস পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিতে হবে। যার কারণে বিয়ের পর আপনার সম্পর্কের মধ্যে কোনো নেতিবাচকতা থাকবে না।

দায়িত্ববান হতে হবে: বিয়ের পর মানুষের দায়িত্ব দ্বিগুণ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে নিজের পাশাপাশি সঙ্গীরও যত্ন নিতে হবে। অন্যদিকে, সঙ্গীর প্রত্যাশা উপেক্ষা করা সম্পর্কের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে। তাই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় দায়িত্বের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। যার কারণে বিয়ের পর আর বেশি ঝামেলায় পড়তে হবে না।

প্রতিটি মানুষের চাওয়া থাকে সুখী দাম্পত্য জীবন। আর সেই চাওয়া পূর্ণ করতে আপনাকেই কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে। ঘরের সুখই প্রকৃত সুখ। দাম্পত্য জীবনে যদি সুখ না থাকে তবে কর্মক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে। 

জেনে রাখা ভালো দাম্পত্য জীবন সুখের করতে অবশ্যই আপনার সঙ্গীতে বুঝতে হবে। দুইজনের সুন্দর বোঝাপড়ার মধ্যেই হতে পারে সুখের সংসার। 

আসুন জেনে নেই দাম্পত্য জীবন মধুর করতে কী করবেন?

বিশেষ দিবস মনে রাখা

আপনার প্রিয় মানুষটি আপনাকে কতখানি ভালোবাসে তা সবচেয়ে বেশি বুঝতে পারবেন আপনার জন্মদিনটি সে কখনোই ভুলবে না। আপনার জন্মদিন ছাড়াও বিশেষ দিবস, যেমন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, পহেলা ফাল্গুন, পহেলা বৈশাখসহ নানা উপলক্ষে আপনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানায় এবং এ দিবসে তার সাধ্যানুযায়ী আপনাকে উপহারসামগ্রী পাঠায়।

সম্পর্ক হোক বন্ধুত্বের

স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কের মধ্যে বন্ধুত্বভাব বজায় রাখলে অনেক সমস্যাই দূরে থাকবে। তবে অবশ্যই একে অপরকে সম্মান করতে হবে ও ভালোবাসতে হবে। 

ক্ষমা

ভুল মানুষ মাত্রই করে। এমন কিছু ঘটলে মাথা ঠাণ্ডা রেখে স্বামী অথবা স্ত্রীকে ভুলটা ধরিয়ে দিন। ক্ষমা করার পর আগের ভুল নিয়ে কখনো কথা বলবেন না।

দায়িত্ব

পরিবারের সবার দায়িত্ব আপনার কাঁধেই। তাই তো অফিসে কাজের দোহাই দিয়ে নিজের কাজ বউয়ের ওপর চাপিয়ে দেবেন না।

চিনুন-জানুন

দুই পরিবারের দুজন মানুষের মধ্যে কিছু মিল-অমিল থাকতেই পারে। বিয়ের পর দুজন-দুজনকে সময় দিন। একে অপরকে চিনুন এবং জানুন। তাহলে অন্যের কানকথা সম্পর্কের মাঝে বিভেদ তৈরি করতে পারবে না।   

অফিসের কাজ, অফিসেই থাক

অফিসের কোনো সমস্যার জের প্রিয় মানুষটির ওপরে ফেলবেন না। আপন মানুষের সঙ্গে নিয়মিত রাগ দেখালে দাম্পত্য জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

বন্ধুকে নিয়ে কম মাতামাতি

বন্ধুকে নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনের মাঝখানে স্থান দেবেন না। আপনার প্রিয় মানুষটির সঙ্গ কাটুক শুধু ভালোবাসায়।

সারপ্রাইজ

বিয়ের বহু বছর পরেও সামান্য সারপ্রাইজ আপনাদের দুজনের প্রেমকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলতে পারে। আর সেই সারপ্রাইজটি হতে পারে প্রিয় মানুষের পছন্দের ফুল কিংবা খাবার অথবা ভিন্ন কিছু।

মতামতের গুরুত্ব দেয়া

একটা কথা হলো যে আপনাকে ভালোবাসবে সে অবশ্যই আপনার মতামতকে গুরুত্ব দেবে। আপনি যখন তার সঙ্গে কথা বলবেন ভালো করে পরখ করে নেবেন সে আপনার মতামতের ওপর কতটা শ্রদ্ধাশীল। দেখতে হবে সে আপনার কথা খেয়াল করে শুনে কিনা? একগুঁয়েমি কোনো সিদ্ধান্ত আপনার ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে কিনা? সর্বোপরি আপনার মতামতের মূল্য দেয় কিনা? আপনাকে যে ভালোবাসে সে আপনার কথা মন দিয়ে শুনবে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।

আমাদের প্যাকেজ এর লিংক:   moonmarriagemedia.com/packages 


সিভি/বায়োডাটা পাঠান এই ই-মেইলে: biodata@moonmarriagemedia.com

পছন্দের জীবনসঙ্গী/ জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পেতে বা বিয়ে সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে ফেসবুক পেইজে ইনবক্স করুন অথবা +8801716204097 নম্বরে কল/হোয়াটসঅ্যাপ করুন।

ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com 

We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience. learn more