এখানেই শেষ নয়, দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীরে আরও নানাভাবে ক্ষতি হয়।
বদ-হজম হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে : বসে থাকাকালীন পানি পান করলে পেটের অন্দরের সব পেশী এবং নার্ভাস সিস্টেম অনেক বেশি রিল্যাক্সিং স্টেটে থাকে। ফলে হজম ক্ষমতা বিগড়ে যাওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। কিন্তু যদি দাঁড়িয়ে কিছু খাবার খান বা পানি পান করেন, তাহলে কিন্তু একেবারে উল্টো ঘটনা ঘটে। ফলে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।
জি ই আর ডি-তে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে : দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পানি খেলে তা সরাসরি ইসোফেগাসে গিয়ে ধাক্কা মারে। ফলে এমনটা হতে থাকলে এক সময়ে গিয়ে ইসোফেগাস এবং পাকস্থালীর মধ্যেকার সরু নালীটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে "গ্যাস্ট্রো ইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজজ" বা ডি ই আর ডি-এর মতো রোগ শরীরে এসে বাসা বাঁধে।
অ্যাংজাইটি লেভেল বেড়ে যায় : একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি খেলে একাধিক নার্ভে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। ফলে কোনও কারণ ছাড়াই মানসিক চাপ বা অ্যাংজাইটি বাড়তে শুরু করে। প্রসঙ্গত, অকারণ মানসিক চাপ কিন্তু শরীরের জন্য় একেবারেই ভাল নয়। তাই এক্ষেত্রে সাবধান হওয়াটা দরুরি।
পানি খেলেও তেষ্টা থেকেই যায় : স্টামাকে কম বেশি প্রায় দেড় লিটার পানি জমা হতে পারে। এই পরিমাণ পানি যখন আমরা একেকবারে খেতে পারি না তখন বারে বারে তেষ্টা পেতে শুরু করে। আর এমনটা কখন হয়? একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীরের একাধিক জায়গায় বাঁধা পেতে পেতে শেষে স্টামাকে এসে যেটুকু পানি জমা হয়, তাতে চাহিদা মেটে না। ফলে বারে বারে তেষ্টা পেতে থাকে। প্রসঙ্গত, আজ থেকে প্রায় ২৫০০ বি সি আগে এই তত্ত্বটি আবিষ্কার করে ফেলেছিল আয়ুর্বেকি বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু আজ ২১ শতকে দাঁড়িয়েও আমাদের পক্ষে তা জানা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। আজান্তে শেষ হয়ে যাচ্ছে আমাদের শরীর।
কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় : যেমনটা আগেও আলোচনা করা হয়েছে যে দাঁড়িয়ে পানি খাওয়ার সময় শরীরের অন্দরে থাকা একাধিক ফিল্টার ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। ফলে পানীয় পানিের মধ্যে থাকা একাধিক ক্ষতিকর উপাদান প্রথমে রক্তে গিয়ে মেশে, তারপর সেখান থেকে কিডনিতে এসে জমা হতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে কিডনির কর্মক্ষমতা কমে গিয়ে এক সময় কিডনি ড্যামেজের সম্ভাবনা দেখা দেয়। তাই আজ থেকে ভুলেও দাঁড়িয়ে পানি খাওয়ার কথা ভাববেন না।
পাকস্থলীতে ক্ষত সৃষ্টি হয় : দাঁড়িয়ে পানি খেলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে আঘাত করে। সেই সঙ্গে স্টমাকে উপস্থিত অ্যাসিডের কর্মক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। ফলে বদ হজমের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে পাকস্থলির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে তলপেটে যন্ত্রণা সহ আরও নানা সব শারীরিক অসুবিধা দেখা দেয়।
>দাঁডিয়ে পানি পানের অভ্যাসের কারণে হতে পারে পায়ে ব্যথা। কারণ দাঁড়িয়ে পানি পান করলে পানি পায়ের দিকে দ্রুত চলে যায়। সেই ক্ষেত্রে দেখা দেয় এই সমস্যা।
>যাদের ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা রয়েছে তারা অবশ্যই সাবধান থাকবেন। কারণ গাউট আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে পানি পান কোনভাবেই ঠিক হবে না। তাই সাবধান থাকুন।
>দাঁড়িয়ে পানি পান করলে হতে পারে হজমের সমস্যা। কিন্তু বসে পানি পান করলে স্নায়ুর এমন অংশ উদ্দীপিত হয় যার মাধ্যমে হজমে সহয়তা মেলে। আর দাঁড়িয়ে পানি পান করলে স্নায়ু উদ্দীপিত হয় না। ফলে খাবার হজমে সমস্যা হয়।
>বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দাঁড়িয়ে পানি পান করলে ফুসফুসের সমস্যা দেখা দিলেও দিতে পারে।
কীভাবে পানি পান করবেন?
দিনে এক আধবার দাঁড়িয়ে পানি পান করলে সমস্যা নেই। তবে প্রতিবারই দাঁড়িয়ে পান করলে অবশ্যই সমস্যা রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞদের কথামতো বসে পানি পান করুন। কারণ বসে পানি পান করলে শরীর ভালো থাকে।
তবে মুশকিল হল, অনেক মানুষই শীতে পানি পান কমিয়ে দেন। কিন্তু এই অভ্যাস শরীরের পক্ষে মোটেই ভালো নয়। বরং শীতেও শরীর ভালো রাখতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত পানির যোগান। এই সময়ও নির্দিষ্ট পরিমাণে পানি পান করা উচিত। অবশ্য কতটা পানি পান করতে হবে তা ঠিক হবে আপনার শারীরিক পরিশ্রমের উপর।
আপনি যদি রাস্তায় বেরিয়ে কাজ করেন তাহলে পানির চাহিদা বেশি হবে। আর যদি কাজ করেন এসিতে বসে তখন অবশ্যই পানির চাহিদা হবে কম। তবে কমপক্ষে ২ লিটার পানি সারাদিনে পান করতেই হবে। তাহলেই শীতে শরীর ভালো রাখা যাবে।
আমাদের প্যাকেজ এর লিংক: moonmarriagemedia.com/packages
ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com