সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, এ বছরই যাবেন। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনাও শুরু করেছেন। শুরু থেকেই এই দম্পতির ভাবনায় ছিল মধুচন্দ্রিমায় দেশের বাইরে যাবেন। চূড়ান্ত পর্যালোচনা শেষে এই দম্পতির সংক্ষিপ্ত তালিকায় এখন আছে থাইল্যান্ড, দুবাই অথবা তুরস্ক।
এমন অনেক দম্পতি, ২০১৯, ২০২০, ২০২১ বা ২০২২ সালে যাঁদের বিয়ে হয়েছে, কথা বলতে গিয়ে জানতে পারলাম, তাঁদের অনেকেই করোনার বাস্তবতায় এখনো মধুচন্দ্রিমায় যেতে পারেননি। অপেক্ষায় আছেন খুব শিগগির পাড়ি জমাবেন নিজেদের পছন্দের জায়গাটিতে।
মধুচন্দ্রিমার পরিকল্পনাটি গুছিয়ে করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে বিয়ের আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন। যদি দেশের বাইরে যেতে চান, আগে থেকে প্রস্তুতি নিলে টিকিটের দামও কম পড়বে। থাকার জন্য ভালো জায়গা পাবেন। ভিসার জন্যও সময় পাবেন।
বিয়ের পরের এই ভ্রমণটাই হলো জীবনসঙ্গীকে চিনে নেওয়ার যথার্থ সময়। তাই প্রস্তুতিতে যদি তাড়াহুড়ো থাকে, তাহলে সেটার প্রভাব মধুচন্দ্রিমাতেও পড়বে। তবে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তেও মধুচন্দ্রিমায় বেরিয়ে পড়া যায়। সেটা অবশ্য কিছুটা ক্লান্তিকর হয়ে পড়তে পারে।
সাদিয়া আনজুম আর সায়জুস সালেহিন দম্পতির মধুচন্দ্রিমার পরিকল্পনাটি যেমন হঠাৎ সিদ্ধান্তে করা। ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে, পরদিনই উপস্থিত সব বন্ধু ঘুরতে চলে যান আলিকদম। বিয়ের পরদিন সকালে তাঁরাও সিদ্ধান্ত নেন, বন্ধুদের সঙ্গে যোগ দেবেন। তবে এই ভ্রমণের জন্য একদমই প্রস্তুত ছিলেন না সাদিয়া, ‘আমাদের কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ক্লান্ত ছিলাম অনেক। ঘুমহীন কাটাতে হয়েছে অনেক রাত। পরদিন সকালে আমার স্বামীর অনুরোধে আমিও রাজি হলাম। অভিজ্ঞতাটি শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর হলেও খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।’ দুই রাত, তিন দিন ছিলেন তাঁরা। বিয়ের পরদিনই পাহাড়ে পাহাড়ে হেঁটে বেড়িয়েছেন। উঠেছেন মারাংথন পাহাড়ের চূড়ায়। খাবার ছিল কাপ নুডলস, চানাচুর আর চিপস। সব মিলিয়ে বন্ধুদের নিয়ে ভিন্ন আমেজের এক মধুচন্দ্রিমা উপভোগ করেছেন এই দম্পতি।
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর দুই-তিন দিনের একটি ব্যবধান রেখে মধুচন্দ্রিমার সময় নির্ধারণ করলে ভালো। এতে করে নিজেরা কিছুটা গুছিয়ে নেওয়া যায়। সবচেয়ে ভালো হয়, মধুচন্দ্রিমার পোশাক ও প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গগুলো আলাদা করে আগেই যদি বাক্সবন্দী করে রাখা যায়। বিয়ের পর ফিরানি, দাওয়াত, শ্বশুরবাড়ির নানা সামাজিকতায় সময় যে কিভাবে চলে যাবে, টেরই পাওয়া যাবে না।
বলে রাখা ভালো, নতুন দম্পতিদের পরস্পরের কাছে একধরনের প্রত্যাশা থাকে। দুজনেই নিজেদের মতো করে প্রকাশ করতে চান নিজেকে। ‘বিয়ের সময়ে, মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার আগে বা পরে ছোটখাটো অনেক বিষয় নিয়ে নতুন দম্পতির মধ্যে দ্বন্দ্ব হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়,’ জানালেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মেখলা সরকার। একজনের হয়তো ওয়াশরুমে সময় লাগে বেশি, আরেকজনের কম।
একজন পানি ছিটাবেন কমোডে, আরেকজনের সেটা একদমই পছন্দ না। এমন ছোটখাটো বিষয়গুলো জেনে নেওয়ার জন্যই মধুচন্দ্রিমাটা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে একজন রেগে গেলে, আরেকজন চুপ থাকুন। পরে কখনো সুবিধা মতো নিজের খারাপ লাগাটা বুঝিয়ে বললেই হবে। দুজনের ভালো-খারাপ দিকগুলো সার্বিকভাবে গ্রহণ করতে হবে।
সাগরের পাড় ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় নীল পানিতে নিজেদের ক্লান্তিকেও যেন ধুয়ে নেওয়া যায়। পুরো জীবন একসঙ্গে পার করে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি হাজার মানুষের ভিড়ে নেওয়া হয়েছে, আরেকবার সেগুলো যেন নিজেদের মধ্যে ঝালিয়ে নেওয়া যায়। একটু আরাম করার জন্য যে কয় দিন দরকার, মধুচন্দ্রিমা হোক সে কয় দিনেরই। আরাম করা, একে অপরকে সময় দেওয়া—অনেকটাই যেন বাধ্যতামূলক কাজ এই সময়। তিন–চার দিনের এই বিশেষ সময়টা নানা জায়গায় ছোটাছুটি করে নষ্ট না করাই ভালো। ছবি তোলার ক্ষেত্রেও একই কথা। হানিমুনে গিয়ে ছবি তোলাটাই যেন মুখ্য না হয়ে যায়। এতে আরও ক্লান্ত হয়ে পড়বেন।
তবে এমন অনেক দম্পতির সঙ্গেও কথা হয়েছে, যাঁরা ঘুরতে ভালোবাসেন এবং মধুচন্দ্রিমার সময়েও ঘুরে বেড়িয়েছেন। সাদিয়া নুসরাত সিদ্দিকা–সালমান তাসিন হক দম্পতি এবং নুসরাত আহমেদ–সজীব আহমেদ দম্পতি বিয়ের আগে থেকেই ঘুরতে পছন্দ করেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই যখন ঘুরতে পছন্দ করেন, তখন অনেকটাই সহজ হয়ে যায় ভ্রমণ।
নানা কারণে এক মাস ধরে চলেছিল নুসরাত ও সালমানের বিয়ের আয়োজন। ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি শেষ হয় বিয়ের অনুষ্ঠান। এরপর মার্চ মাসে তাঁরা মধুচন্দ্রিমায় বেরিয়ে পড়েন। এই দম্পতি জানালেন, ‘কোভিডের কারণে ট্যুরিস্ট ভিসা পেতেও ঝামেলা হচ্ছিল। অনেক দেরি করে ফেললে আবার মধুচন্দ্রিমায় আর যাওয়া হয়ে ওঠে না। তাই ভিসার ঝামেলা নেই, টিকিট কাটলেই প্লেনে উঠে পড়া যাবে, এমন দেশের দিকেই তাকালাম। ২১ দিনের ভ্রমণ ছিল আমাদের মধুচন্দ্রিমায়। মালদ্বীপে ছিলাম প্রথম ৫ দিন। সেখানে আরাম করে, পুরোপুরি সতেজ হয়ে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ি। শ্রীলঙ্কায় অনেক ঘুরেছি। মালদ্বীপে ঘুরে বেড়ানোর মতো কিছু নেই। ওপরে অসম্ভব সুন্দর আকাশ আর নিচে অ্যাকুয়া গ্রিন পানি। পুরো মালদ্বীপ সাজানো যেন নতুন দম্পতিদের জন্য।’ মালদ্বীপ থেকে শ্রীলঙ্কায় এসে আরও বেশি মজা পেয়েছিলেন এই দম্পতি। কারণ, এই ভ্রমণ ছিল রোমাঞ্চকর। ঘুরেছেন ইচ্ছেমতো। সার্ফিং, স্কুবা ডাইভিং,জঙ্গলের মধ্যে হেঁটে বেড়ানো—কত কী যে করেছেন।
আমাদের প্যাকেজ এর লিংক: moonmarriagemedia.com/packages
ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com