Successful Blog

নারীরা কি বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারবে?

অবিবাহিত নারী নিজে পছন্দ অনুযায়ী কোনো পুরুষকে কি বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারবে? নারী কর্তৃক বিয়ের প্রস্তাব দেয়ায় ইসলামের নির্দেশনাই বা কী? কারণ স্বাভাবিকভাবে এ বিষয়টি তেমন ঘটে না। আবার ঘটলেও এটিকে ভালো দৃষ্টিতে দেখে না মানুষ।

নারী কর্তৃক বিয়ের প্রস্তাব

সমাজে কোনো নারী যদি নিজের বিয়ের জন্য কোনো পুরুষকে বা তার অভিভাবককে বাসায় গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, বিয়ে করার আগ্রহ প্রকাশ করে; তবে তাকে বেহায়া বা নির্লজ্জ ভাবা হয়। আসলেই কি তাই!

‘না’, বিষয়টি তা নয়, ওই নারী বেহায়া কিংবা নির্লজ্জও নয়। এটি শরিয়তসম্মত। ইসলামি শরিয়তের অন্যতম একটি বিষয়। যেমনটি করেছিলেন উম্মাহাতুল মুমিনিন হজরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সচ্চরিত্র, দ্বীনদারি ও আমানতদারিতায় মুগ্ধ হয়ে তিনিই তাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন।

মনে রাখতে হবে

বিয়ে একটি সামাজিক চুক্তি। এতে কিছু বিষয় দেখা হয়। এরমধ্যে চারিত্রিক সুন্দর গুণ ও সামাজিক কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত। আর ইসলাম বিয়ের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোর প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো- ‘বিয়ের জন্য নির্ধারিত ব্যক্তির দ্বীনদারি। এ দ্বীনদারিকে বিয়ের জন্য অন্যতম উপকরণ হিসেবে ভাবা হয়।’

তাই কোনো অবিবাহিতা বা স্বামী নেই, এমন নারী যদি কোনো অবিবাহিত কিংবা স্ত্রী নেই এমন পুরুষের দ্বীনদারি ও উত্তম গুণে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ে করার আগ্রহ প্রকাশ করেন বা অভিভাবকের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান তাতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং এটি অতি উত্তম। হাদিসে এসেছে- 

হজরত তাবিত আল-বানানী বর্ণনা করেছেন, আমি হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে ছিলাম। আর তার সঙ্গে তার এক মেয়ে ছিল। হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-

‘এক নারী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তাকে নিজের (বিয়ের) জন্য প্রস্তাব দিলেন। মেয়েটি বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনার কি আমাকে স্ত্রী হিসেবে প্রয়োজন আছে ?

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাকে বিয়ে করে নিন।

সরাসরি এ  প্রস্তাবে হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর মেয়ে বলল, ‘ছি ! মেয়েটার বিনয়ের কত অভাব! কত বেহায়া সে! কত লজ্জাজনক!

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু (তার মেয়েকে) বলল, সে বরং তোমার চেয়ে ভালো; সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিয়ে করতেচেয়েছে। তাই (সে) নিজের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে।’ (বুখারি)

> হজরত সালামা বিনতে আব্দুর রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন এক মেয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা, কতই না উত্তম পিতা। আমার চাচাত ভাই আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিল আর তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। আর এমন এক ছেলের সঙ্গে (আমাকে) বিয়ে দিতে চাইছেন যাকে আমি অপছন্দ করি।

এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলে (মেয়েটির) পিতা বলে, মেয়েটি সত্যই বলেছে। আমি তাকে এমন পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিচ্ছি যার পরিবার ভালো নয়।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘এ বিয়ে হবে না, (মেয়েটিকে বললেন) তুমি যাও, যাকে ইচ্ছে বিয়ে করে নাও’। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা)

কুরআনের বর্ণনায় নারীর পছন্দ

হজরত মুসা আলাইহিস সালাম যখন মাদাইয়ানে গেলেন তখন দুই নারীর পশু জন্তুকে পানি খাইয়ে দিয়েছিলেন। পরহেজগার দুই মেয়ের একজন নিজ থেকেই পিতার কাছে হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে বিয়ে করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা সুরা কাসাসে তা এভাবে তুলে ধরেছেন-

- অতপর দুই বালিকার একজন লজ্জাজড়িত পদক্ষেপে তাঁর কাছে আগমন করল। বলল, আমার পিতা আপনাকে ডেকেছেন, যাতে আপনি যে আমাদের (পশুকে) পানি পান করিয়েছেন, তার বিনিময়ে পুরস্কার প্রদান করেন। অতপর মুসা যখন তাঁর কাছে গেলেন এবং সব বৃত্তান্ত বর্ণনা করলেন, তখন তিনি বললেন, ভয় করো না, তুমি জালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছ।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ২৫)

- দুই বালিকার একজন বলল, পিতা! তাকে চাকর নিযুক্ত করুন। কেননা, আপনার চাকর হিসেবে সে-ই উত্তম হবে; যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ২৬)

- (বালিকার) পিতা মুসাকে বললেন, আমি আমার এই দুই কন্যার একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার চাকরি করবে, যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর, তা তোমার ইচ্ছা। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। আল্লাহর ইচ্ছায় তুমি আমাকে সৎকর্মপরায়ণ পাবে।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ২৭)

নারীর প্রস্তাব দেয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার যে-

- একজন পুরুষের ধার্মিকতা তথা দ্বীনদারি, সৎগুণ ও সম্মানজনক অবস্থানের কারণে বা ধর্মের প্রতি অনুরাগ দেখে তাকে বিয়ে করার জন্য একজন মেয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে তাতে দোষের বা লজ্জার কোনো কিছুই নেই; বরং এটি নারীর জন্য এক ধরণের উত্তম গুণ।

আর বিয়ের ক্ষেত্রে নারী নিজেই পুরুষকে বিয়ে প্রস্তাব দেয়া বা আগ্রহ প্রকাশ করা একটি সুন্নাত কাজ। কারণ উম্মাহাতুল মুমিনি হজরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা নিজেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সর্বকালের সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ ও উত্তম চরিত্রের অধিকার। তাঁর আখলাক ও দ্বীনদারী দেখেই হজরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেলেন।

নারীর করণীয়

নারীর নিজের বিয়ের প্রস্তাব মোটেই লজ্জার বিষয় নয়, বরং উত্তম চরিত্র ও দ্বীনদারিতে মুগ্ধ হয়ে পুরুষকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারবে নারী। আর তাতে পুনর্জীবিত হবে একটি সুন্নাত।

সতর্কতা

নারীর বিয়ের প্রস্তাবের মাঝে যেন কোনো ফেতনার আশঙ্কা না থাকে সে দিক থেকে সতর্ক থাকতে হবে। ইসলামি শরিয়তের বিষয়গুলো মেনেই শুধু নারী এ বিয়ের প্রস্তাব দেবে বা বিয়ে করার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারীকে দ্বীনদারি ও উত্তম গুণ সম্পন্ন পুরুষকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার বা আগ্রহ প্রকাশ করার তাওফিক দান করুন। সৎ,আমনতদারী ও উত্তম গুণ সম্পন্ন ব্যক্তিকে বিয়ের করার তাওফিক দান করুন। গোনাহমুক্ত জীবন লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

আমাদের প্যাকেজ এর লিংক:   moonmarriagemedia.com/packages 

সিভি/বায়োডাটা পাঠান এই ই-মেইলে: biodata@moonmarriagemedia.com

পছন্দের জীবনসঙ্গী/ জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পেতে বা বিয়ে সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে
 ফেসবুক পেইজে ইনবক্স করুন অথবা +8801716204097 নম্বরে কল/হোয়াটসঅ্যাপ করুন।

ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com


We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience. learn more