আমার বয়স ২৬ বছর। আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। নিজের পছন্দে আমাদের বিয়ে হয়েছে তিন বছর আগে। গত দু্ই বছর আমাদের দিনকাল ভালোই যাচ্ছিল। কিন্তু এক বছর ধরে আমার স্বামী ঠিকমতো কথাবার্তা বলছে না। ইনিয়ে-বিনিয়ে বলার চেষ্টা করছে, আমার সঙ্গে সে আর থাকতে চায় না। আমার আচার-আচরণে সে নাকি খুব বিরক্ত।
আমি নাকি তাকে বোঝার চেষ্টা করছি না। আমাদের সম্পর্কের ভালোর জন্য সে তিন থেকে চার মাস আলাদা থাকতে চাইছে। আমি মনেপ্রাণে এ সম্পর্কে থাকতে চাই। আমি এখন কী করব?
১৯৮৫ সালের পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ দাম্পত্য অধিকার ফিরে পাওয়াবিষয়ক মামলার সুযোগ রেখেছে। দাম্পত্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাদীকে সৎ মনোভাব নিয়ে আদালতে আসতে হয় এবং প্রমাণ করতে হয় যে তাঁর সঙ্গী কোনো কারণ ছাড়াই ঘরে ফিরতে চান না। কাজেই এখানে আলাদা বসবাস মামলার একটি উপাদান। নয়তো কোনো স্বামী-স্ত্রীর একান্ত দাম্পত্যজীবনে কোনো আইনই সাধারণত হস্তক্ষেপ করে না। সংসার একটি পারস্পরিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্র। এখানে দুজনের মনের বা মতের মিল না হলে আইন প্রয়োগ করে সেটা ঘটানো সম্ভব নয়। সুতরাং এ ধরনের সমস্যায় নিজেদেরই যথাসম্ভব সমাধানের পথ খুঁজে নিতে হবে। একান্তই সম্ভব না হলে, ক্ষতি এড়ানো না গেলে, আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন। তবে দুঃখজনক, সেই সুযোগ আপনার মতো সমস্যায় অবারিত নয়।
আমি বিবাহিত এবং এক সন্তানের মা। আমার বয়স ৩০ বছর। প্রথম সমস্যা, আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত। বেশ কিছুদিন ফেসবুক ডিঅ্যাকটিভ করে রেখে বা লগ আউট করে এবং আরও অনেকভাবে চেষ্টা করেছি সেখান থেকে দূরে থাকার। কিন্তু কিছুতেই কোনো লাভ হচ্ছে না। এতে আমার প্রচুর সময় নষ্ট করছে। মাঝেমধ্যে প্রচণ্ড পরিমাণে বিরক্ত বোধ করি। নিজের সন্তানের লেখাপড়ার দিকে ঠিকঠাক মনোযোগ দিতে পারছি না।
আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে, আপনি সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে একধরনের আসক্তির পর্যায়ে চলে গেছেন। কোনো কিছুতে আসক্ত হয়ে পড়লে যত সময় যাবে, ততই আসক্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকবে। মানে হলো, আগে আপনি যদি এক ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় করতেন, সেখানে দিনকে দিন আপনার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় বাড়তে থাকবে। আসক্তি বলা হয় তখনই, যখন আমাদের মস্তিষ্কের একধরনের জৈব রাসায়নিক এবং জৈব কাঠামোগত কিছু পরিবর্তন হয়। সে কারণে আমাদের ইচ্ছাকৃত যে ব্যবহার, সেটা রূপান্তরিত হয় বাধ্যগত ব্যবহারে। এতে আপনি বেশি সময় ব্যবহার না করলে আপনার মধ্যে একধরনের প্রত্যাহারজনিত অস্থিরতা কাজ করবে। এ অবস্থার কারণে আপনি বিরক্ত বা খিটখিটে অনুভব করছেন।
আপনি ধাপে ধাপে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। শুরুতে আপনি ফেসবুক ডিঅ্যাকটিভ করুন। এতে কাজ না দিলে অ্যাপসগুলো আনস্টল করুন। এতেও কাজ না হলে বিভিন্ন ডিভাইস যেমন- মোবাইল, ল্যাপটপ কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখুন। এই সময়টাতে আপনি আপনার পছন্দের কাজ (গান শোনা, বই পড়া, বাগান করা) করতে পারেন। এ ছাড়া আপনার দরকার একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। আপনি যেকোনো সরকারি হাসপাতাল থেকে এই চিকিৎসা পেতে পারেন। আমার বয়স ২৫ বছর। বিয়ে হয়েছে ৫ বছর আগে।
এখনো সন্তান নিইনি। আমি একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। কিছুদিন আগে জানতে পারি আমার স্বামী পরকীয়া করে। এটা শুনে আমি মানসিকভাবে অনেক খারাপ অবস্থায় আছি। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে বলে, আমার কারণে সে এমনটা করছে।
আমার রাগ আর জেদ বেশি। এটা হলো আমার দোষ। আমি যদি কোনো কিছু নিয়ে রিঅ্যাক্ট করি, সঙ্গে সঙ্গে সে আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করে। কিন্তু আমি যে তার সবকিছু সহ্য করছি, এটা নিয়ে তার কোনো কিছু বলার নেই। তার একটাই কথা—আমি কোনো কিছু নিয়ে কোনো রিঅ্যাক্ট করতে পারব না। আমি কোনো সেপারেশনে যেতে চাই না। তাকে অনেক বেশি ভালোবাসি। আমি
এখন কী করব?