জীবনে একবার হলেও প্রেমে পড়েনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। একবারের জন্য হলেও প্রেমে পড়ার অসাধারণ অনুভূতিটা নিশ্চয়ই কখনও না কখনও সবাই পেয়েছেন৷ প্রেমে পড়লে জীবনে আসে নানান রকমের পরিবর্তন। সেই সঙ্গে দেহেও আসে নানান পরিবর্তন। প্রেমে পড়লে শরীরে ঠিক কি কি পরিবর্তন ঘটে? নিচে তা দেয়া হল।
১. মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পরিবর্তিত হয়ে যায়:
প্রেমে পড়ার বিষয়টি মস্তিষ্কের ১২ টি স্থানে গিয়ে আঘাত করে। ফলে প্রেমে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পরিবর্তিত হয়ে যাবে। মস্তিষ্ক সব সময়ে যেভাবে চিন্তা করেছে, সেভাবে চিন্তা করতে পারবে না। অনেক বিষয়ই আবেগ দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হবে তখন।
২. হৃৎপিণ্ডের গতি পরিবর্তিত হয়ে যায়
প্রেমে পড়লে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। আর হরমোনের এই পরিবর্তনের ফলে রক্তচাপ কমে যায়। সেই সঙ্গে কমে যায় হৃৎপিন্ডের গতিও। বিশেষ করে ভালোবাসার মানুষটির আশেপাশে থাকলে এই পরিবর্তনটা বেশি ঘটে থাকে।
৩. ঘুম কম হয়
প্রেমে পড়লে কমপক্ষে একঘণ্টা কমে যায় রাতের ঘুম। একটি সমীক্ষায় পাওয়া গিয়েছে এই তথ্য। জার্নাল অফ অ্যাডোলেসেন্ট হেলথে প্রকাশিত হয়েছিল গবেষণাটি। আর তার কারণ হল, রাতে ঘুমাতে গেলেই প্রিয় মানুষটির কথা সবচাইতে বেশি মনে পড়তে থাকে এবং শারীরিক ও মানসিক অস্থিরতা বেড়ে যায়। ফলে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত হতে পারে না শরীর এবং ঘুমাতে দেরি হয়ে যায়।
এসব তো সিনেমা মারফৎ আমাদের সকলেরই জানা। তবে বাস্তবে বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দেখেছেন, প্রেমে পড়লে এক ধরণের হরমোন আমাদের মনে উত্তেজনা ছড়ায় আর তার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই সকল ঘটনা ঘটে৷
আদতে প্রেমে পড়লে দেহ-মনে যেসব প্রতিক্রিয়া হয় তার জন্য দায়ী টেস্টোস্টেরন নামের এক হরমোন৷ কোনেও মানুষ বিপরীত লিঙ্গের কারো প্রতি আকৃষ্ট হলে টেস্টোস্টেরন বাড়তে শুরু করে৷ প্রেমের ওই প্রাথমিক ধাপেই দেখা দেয় হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হাত কাঁপার মতো উপসর্গগুলো৷ প্রেমে পড়া মানুষের দেহে অন্য সব মানুষের তুলনায় টেস্টোস্টেরন অনেক বেশি থাকে।
প্রেমের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে নেমে পড়ে ডোপামিন৷ এই হরমোনের অন্য নাম, ‘সুখের হরমোন’৷ শুধু প্রেমে পড়লেই যে এই হরমোন ক্রিয়াশীল হয় তা কিন্তু নয়, কোকেন বা সিগারেটের নেশা করলেও ডোপামিন উজ্জীবিত হয়৷ এ কারণেই অনেকে বলেন, প্রেমে পড়া আর নেশা করা একই।
তবে প্রেমের যে পর্যায়ে বুক ধড়ফড় করে, হাত ঘামায় তখন অ্যাড্রেনালিন নামের একটা হরমোনও খুব বেড়ে যায়৷ এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে ক্ষুধা কমে যায়৷ কম খাওয়া-দাওয়া করার ফলে শরীর দ্রুত ভেঙে পড়তে থাকে৷
প্রেমে পড়ার তিন-চার মাস পর সাধারণত সম্পর্কে একটা স্থিতি আসে৷ তখন শুরু হয় আরেক হরমোন অকসিটোসিনের কাজ৷ এই হরমোনের কারণে দু-জনের সম্পর্কটা আরেও ঘনিষ্ঠ হয়৷ প্রেমিক-প্রেমিকা যখন চুম্বন করেন, তখনও দুজনের শরীরে অকসিটোসিন তৈরি হয়৷ আর এভাবেই দুজন দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের পথে এগিয়ে যান৷
আমাদের প্যাকেজ এর লিংক: moonmarriagemedia.com/packages
ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com