প্রেম করে বিয়ে করলেও টেকে না যে ৪ কারণে
➢ দম্পতিদের মধ্যে মানসিক দূরত্বও বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ। কেবল ‘আই লাভ ইউ’ বললেই ভালোবাসা প্রকাশ করা যায় না, ব্যবহারেও ফুটে ওঠে। অনেক সময় শারীরিক স্পর্শও অনেক কিছু প্রকাশ করে। তবে যদি এইটুকু শারীরিক সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাহলে সম্পর্কের মধ্যে নিস্তেজতা এমন পর্যায়ে চলে যায় যে ডিভোর্স হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
➢ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মিল না থাকলে প্রায় স্বাভাবিকভাবেই ঘরে অশান্তি দেখা দেবে। এরপর মনোমালিন্য, একজনের সঙ্গে অন্যজন কথা না বলা ইত্যাদি কারণে বিচ্ছিন্নতা ও একাকীত্ব বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এমন সম্পর্ক টেনে নিয়ে গেলেও এক সময় বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটতে পারে। একটি সম্পর্ক ভালোভাবে টিকিয়ে রাখতে শুধু ভালো আর্থিক অবস্থা থাকলেই চলে না, দরকার ইমোশনাল সাপোর্টও। অনেক সময় দম্পতিরা কমিউনিকেশন গ্যাপের পাশাপাশি ইমোশনালি সাপোর্টের অভাব অনুভব করে।
এ ধরনের পরিস্থিতি সামনে আসতে থাকলে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক দূরত্বও আসতে শুরু করে। এভাবেই একবার একে অপরের প্রতি আকর্ষণ কমে গেলে একসঙ্গে থাকা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।
একটি শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তার বাড়ি। এই বাড়িতেই ছোট-বড় নানা ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে এক থেকে পাঁচ বছরের শিশুরা। এই বয়সের শিশুদের কৌতুহল অনেক বেশি হয়ে থাকে। যেকোনো কিছু ধরতে চাওয়া, জানালার গ্রিল বেয়ে ওপরে ওঠা, এদিক-সেদিক চলে যাওয়া ইত্যাদি শিশুদের স্বভাবসিদ্ধ কৌতুহলবশত করা কাজ। ক্ষণিকের অসতর্কতায় ঘটে যেতে পারে মারাত্মক কোনো দুর্ঘটনা। তাই শিশুদের নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ডাক্তার রিয়াজ মোবারক জানান, তার অভিজ্ঞতায় ঘরে দুর্ঘটনার শিকার শিশুকে সবচেয়ে বেশি নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে থাকে - পড়ে গিয়ে আঘাত, গরম পানি ও আগুনে পুড়ে যাওয়া, বোতাম, মার্বেল বা পয়সার মত ছোট কোনো কিছু গিলে ফেলা, গলায় ফাঁস লাগা, অথবা ঘুমের ওষুধ বা বড়দের অন্য কোনো ওষুধ, টয়লেট পরিষ্কারক, পোকা মারার ওষুধ খেয়ে ফেলা ইত্যাদি।
ঘরের ভেতরে পানিতে ডুবে যাওয়ার মতো ঘটনাও রয়েছে বলে তিনি জানান। তার কাছে নিয়ে আসা একটি মৃত বাচ্চা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাচ্চাটা কোন ফাঁকে বাথরুমে ঢুকে বালতিতে রাখা পানি নাড়াচাড়া করছিল। উপুড় হয়ে পানি ধরতে গিয়ে মাথাটা ভেতরে ঢুকে পানির নিচে চলে গিয়েছিল। সে নিজেকে আর টেনে তুলতে পারেনি। পাঁচ মিনিটের মত ওইভাবে ছিল। দেখুন মাত্র আধা বালতি পানি কিভাবে শিশুটির প্রাণ নিয়ে নিলো।’ ছোটখাটো অনেক কিছু থেকে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই শিশুদের দিক থেকে দৃষ্টি সরানো যাবে না এবং এক মুহূর্তের জন্যও অসচেতন হওয়া যাবে না। শিশুদের নিরাপত্তায় বাড়তি সতকর্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক নাসরিন সুলতানার কয়েকটি পরামর্শ জেনে নেয়া যাক-
* শিশুর জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে এমন সকল বস্তু তার হাতের নাগালের বাইরে রাখা। যেমন ম্যাচ, লাইটার, ছুরি, কাঁচি, স্টেপলার, নেইলকাটার, ঔষধ, জীবাণু ও কীটনাশক ইত্যাদি। নয়াদিল্লি: বেশির ভাগ বিবাহবিচ্ছেদ শুধুমাত্র প্রেম করে বিয়ের ক্ষেত্রেই ঘটে! বুধবার বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতি সঞ্জয় করোলের বেঞ্চে একটি মামলার শুনানিতে এমনই পর্যবেক্ষণের কথা জানানো হয়।
এ দিন একটি বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলার শুনানি করছিল বেঞ্চ। এই মামলায় মামলায় মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দেয় আদালত। যদিও মামলার অন্যতম পক্ষ এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। এর পরই, গত ১ মে-র একটি রায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আদালত। যে রায়ে বলা হয়েছে, যদি কোনো বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পথে থাকে, তা হলে নিজের পক্ষ থেকে দ্রুত বিবাহবিচ্ছেদের সায় দিতে পারে আদালত। ১ মে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ বলেছিল, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে দেওয়া বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে আদালত এই নির্দেশ দিতে পারে।
এ দিনের মামলার শুনানিতে বেঞ্চ জানতে চায়, মামলাকারী দম্পতির প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল কি না। উত্তরে সম্মতিসূচক জবাব দেন আইনজীবীরা। এর পরই প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য শোনা গেল বিচারপতির মুখে। তখন বিচারপতি গাভাই বলেন, “বেশির ভাগ বিবাহবিচ্ছেদ শুধুমাত্র প্রেম করে বিয়ের ক্ষেত্রেই ঘটে”।
বলে রাখা ভালো, এত কাল অবধি হিন্দু বিবাহ আইনের ১৩বি ধারা অনুসারে কোনও ব্যক্তি বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আবেদন করলে তা মঞ্জুর হতে ৬ মাস সময় লাগত। পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য বাধ্যতামূলক অপেক্ষার সময়টি দূর করা যেতে পারে কিনা, সে বিষয়েই আলোকপাত করেছে সর্বোচ্চ আদালত। গত ১ মে বেঞ্চ এই বিষয়টি বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক নির্ধারিত সময়ের আগেই ভেঙে দেওয়া যায় কিনা।
রায় ঘোষণা করার সময়, বেঞ্চ বলেছে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২(১)-এর অধীনে সুপ্রিম কোর্টকে ‘সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার’ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে কখনও সন্দেহ বা বিতর্ক ছিল না। বেঞ্চের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে বিচারপতি খান্না বলেন, “আমরা মনে করি যে এই আদালতের দু’টি রায়ে উল্লেখিত প্রয়োজনীয়তা ও শর্তাবলী সাপেক্ষে ৬ মাসের সময়সীমা বাতিল করা যেতে পারে।”
এখন আগের তুলনায় নারী শিক্ষার হার বেশি এবং তারা আর্থিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে।
• বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে একতরফাভাবে শুধুমাত্র মেয়েরা দায়ী নয়। এখানে উভয়ে সমানভাবে দায়ী। একটা সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে গেলে যেমন একজনের দ্বারা সম্ভব না, তেমনি একজনের কারণে একটা সম্পর্ক ভেঙেও যায় না। একটা কথা প্রচলিত আছে এক হাতে তালি বাজে না। তেমনি সমস্যাও একদিনে সৃষ্টি হয় না। অনেক দিনের ক্ষোভ, অভিমান, রাগ, দুঃখ মিলে সম্পর্কে ফাটল ধরে। আর এর জন্য বিবাহ নামক পবিত্র বন্ধন ছিন্ন করে মানুষ বিচ্ছেদের কথা চিন্তা করে। তবে বিচ্ছেদ কখনোই কোনো ভালো সমাধান হতে পারে না।
• আমরা সবসময় নিজের চোখ দিয়ে অন্যকে দেখার চেষ্টা করি আর ভাবি, আমি যেভাবে চাইছি আমার জীবনসঙ্গী হবে ঠিক আমার মনের মতো। আমি যা কিছু পছন্দ করি সেও তাই করবে, আমার সবকিছুকে সে নিজের করে নেবে, সে হবে আমার সবচেয়ে পছন্দের মানুষ। কল্পনা আর বাস্তবের মধ্যে অনেক পার্থক্য। কল্পনায় অনেক সময় আমরা অনেক কিছু ভাবতে পারি, কিন্তু বাস্তবে তার সবটা সম্ভব হয় না। এখানে প্রত্যেকটা মানুষের চাল-চলন, আচার-আচরণ একেক রকম। কেউ আসলে কারো মতো হয় না। তবে হয়তো আপনি যদি বিয়ের পর থেকে আপনার জীবনসঙ্গীকে আপনার পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে একটা ধারণা দেন তাহলে হয়তো বোঝাপড়াটা অনেক ভালো হবে।
• অনেক সময় দেখা যায় স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক এমন একটা পর্যায়ে যায় যখন একসঙ্গে থাকার আর কোনো পথই খোলা থাকে না। তখন একে অপরের শুধু দোষ খোঁজা ছাড়া আর কিছুই করে না। সেই সময় বিবাহ বিচ্ছেদ জরুরি হয়ে পড়ে। কিন্তু এই বিচ্ছেদ বেশিরভাগ সময় হয় সন্তান হওয়ার পরে। আর তখনই শুরু হয় সন্তানকে নিয়ে টানাটানি। আর আমরা চিন্তা করেও দেখি না বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে সন্তান কতটা অসহায় অবস্থায় থাকে। বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, সন্তান বাবা-মা দুজনকে একসঙ্গে কাছে পেতে চায়। শুধুমাত্র সন্তানের ভালো দিকটা বিবেচনা করেও অনেক মানুষ মুখ বুজে সংসার করে চলেছে। বিবাহ বিচ্ছেদ আসলেই একটা যন্ত্রণাদায়ক ব্যাপার। তবে এমন অনেক সময় আসে যখন বিবাহ বিচ্ছেদটা একান্ত অপরিহার্য হয়ে উঠে। এই সময় একে অপরের ওপর বিশ্বাস ভালোবাসা কিছুই থাকে না। দেখা যায় স্বামী এমনভাবে অত্যাচার করছে কিংবা তার চারিত্রিক কিছুটা ত্রুটি আছে অথবা যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে চাপ দিচ্ছে। আবার স্ত্রী যদি হয় স্বার্থপর মনোভাবের এবং স্বামীর বাবা-মাকে সে কোনোভাবেই মানতে চাইছে না তাহলে এই সব পারস্পরিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে মানুষ একপর্যায়ে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সমস্যা যাই থাকুক না কেন, তার সমাধানের পথও কিন্তু আছে। আমরা যদি কিছু ব্যাপারে একে অপরকে ছাড় দেই তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদের পরিমাণ কিছুটা হলেও কমবে। সবাই একটা কথা হলফ করে বলা শুরু করেছে, প্রেমের বিয়েতেই শুধু বিচ্ছেদের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। কারণ প্রেমের বিয়েতে অধিকাংশ সময় ছেলেমেয়েদের বয়স সমান থাকে এবং তাদের একে অপরের কাছে চাহিদাটাও বেশি থাকে। তাদের সবসময় ধারণা, বিয়ের পরের দিনগুলোও হবে সবসময় সুখের। কিন্তু সংসার আর প্রেম সম্পূর্ণ আলাদা। মূলত একে অপরের কাছ থেকে বেশি চাহিদার কারণে এই বিয়েতে সবচেয়ে সমস্যা হয়।
• প্রেমের বিয়েতে বুদ্ধি বিবেচনা না করে মানুষ এমন একটা জায়গায় বিয়ে করে যে আবেগ থেকে বেরিয়ে বাস্তবতায় মানাতে পারে না। আর পারিবারিক বিয়ের বেলায় অনেক সময় আমরা পাত্র-পাত্রীর নাম যশ প্রভাব প্রতিপত্তি আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে সাবধানতার সঙ্গে কাজ করি। কিন্তু পরবর্তীতে অতি লোভের বশবর্তী হয়ে কাঙ্ক্ষিত জিনিস না পেলে সম্পর্কে ফাটল ধরে।
• তবে পারিবারিক বিয়েতেও যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় না তা কিন্তু নয়। পারিবারিক বিয়েগুলো অধিকাংশ সময় স্বার্থের বেড়াজালে বন্দী হয়ে যায়। লোভের বশবর্তী হয়ে বিয়েতে রাজি হয় এমন সম্পর্ক অনেক সময় ভেঙে যায়।
• সুন্দর ও সুখের পারিবারিক বন্ধনকে অটুট রাখতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। প্রেমের বিয়ে এবং পারিবারিক দুই বিয়েই টিকবে, যদি আমরা একে অপরকে বিশ্বাস করি। সংসার মানে কিন্তু কিছুটা সমস্যা থাকবে। এটা যদি আমরা খোলামেলাভাবে আলোচনা করি, তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদ নামক জটিল সমস্যার কিছুটা সমাধান করা সম্ভব হবে।
আমাদের প্যাকেজ এর লিংক: moonmarriagemedia.com/packages
ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com