সম্পর্কে বন্ধুত্বের প্রয়োজনীয়তা
পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য মানুষের যেমন খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান প্রয়োজন, তেমনি সমাজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির। কেননা মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ হয়ে চলা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। আর মানুষের স্বভাব-প্রকৃতিই এমন যে কোনো মানুষ একাকী থাকতে চায় না। সমাজের অন্য সবার সঙ্গে প্রীতির মেলবন্ধনে জড়িয়ে থাকতে আগ্রহী। এই পারস্পরিক সম্পর্ক, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মায়াজাল মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের আবহ সৃষ্টি করে। একেক জনের পেশা একেক রকম। তাই সমাজে একজনকে আরেকজনের প্রয়োজন পড়ে। এটা আল্লাহর এক অশেষ নিয়ামত। কেননা সমাজবদ্ধতার প্রশ্নে মানুষ একে অপরের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। সঠিকভাবে যথার্থ বন্ধু নির্বাচন করার মধ্য দিয়ে মানুষ তার সামাজিক এবং ব্যক্তিগত জীবনকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ করে তোলে। এই বন্ধুত্বের ব্যাপারে ইসলামের রয়েছে বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি।
يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصّٰدِقِينَ
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সহযোগি হও।
সূরা তাওবাঃ ১১৯
বন্ধুত্বের প্রয়োজনীয়তাঃ
সমাজে চলার পথে বন্ধুর প্রয়োজন হয়। সামাজিক সম্পর্ক তৈরীতে বন্ধুত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানুষের কর্ম, চিন্তা-ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয় বন্ধুত্বের কল্যাণে। এ কারণে কার সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে এবং কাদের বর্জন করতে হবে এ ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ তাআ'লা আমাদের পথ দেখিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
“হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ
ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমোদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার।
নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।”
সূরা আল-হুজুরাতঃ ১৩
وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاَةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللّهَ وَرَسُولَهُ أُوْلَـئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللّهُ إِنَّ اللّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
“আর ঈমানদার পুরুষ এবং ঈমানদার একে অপরের বন্ধু। তারা ভালো কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠিত করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবনজাপন করে। তাদের ওপর আল্লাহতায়ালা অনুগ্রহ করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী সুকৌশলী।
সূরা আত তওবাঃ ৭১
أَبُو مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَمَّا الَّذِي قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ خَلِيلاً لاَتَّخَذْتُهُ وَلَكِنْ خُلَّةُ الإِسْلاَمِ أَفْضَلُ أَوْ قَالَ خَيْرٌ فَإِنَّهُ أَنْزَلَهُ أَبًا أَوْ قَالَ قَضَاهُ أَبًا
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘আমি এ উম্মাতের কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করলে তাকে [আবূ বাকর (রাঃ)]-কে গ্রহণ করতাম। কিন্তু ইসলামী বন্ধুত্বই সবচেয়ে উত্তম।’’ أَفْضَلُ শব্দ বলেছেন না কি خَيْرٌ এ ব্যাপারে রাবীর সন্দেহ আছে। তিনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁকে (ইবরাহীম আ. কে) পিতৃ মর্যাদা দিয়েছেন অথবা তাঁকে পিতার আসনে বসিয়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৮২) বুখারীঃ ৬৭৩৮
বন্ধু নির্বাচনের গুরুত্বঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَتَّخِذُواْ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاء بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللّهَ لاَ يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
“হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।”
সূরা আল-মায়েদাঃ ৫১
وَلاَ تَرْكَنُواْ إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُواْ فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللّهِ مِنْ أَوْلِيَاء ثُمَّ لاَ تُنصَرُونَ
“আর পাপিষ্ঠদের প্রতি ঝুঁকবে না। নতুবা তোমাদেরকেও আগুনে ধরবে। আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু নাই। অতএব কোথাও সাহায্য পাবে না।”
সূরা হূদঃ ১১৩
নবী করীম (ﷺ) সৎ সঙ্গী গ্রহণে উৎসাহিত করেছেন, এবং অসৎ সঙ্গী থেকে দূরে থাকতে তাকিদ দিয়েছেন।
وَعَن أَبي مُوسَى الأَشعَرِي رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِنَّمَا مَثَلُ الجَلِيسِ الصَّالِحِ وَجَلِيسِ السُّوءِ، كَحَامِلِ المِسْكِ، وَنَافِخِ الْكِيرِ، فَحَامِلُ الْمِسْكِ: إمَّا أنْ يُحْذِيَكَ، وَإمَّا أنْ تَبْتَاعَ مِنْهُ، وَإمَّا أنْ تَجِدَ مِنْهُ رِيحاً طَيِّبَةً، وَنَافِخُ الكِيرِ : إمَّا أنْ يُحْرِقَ ثِيَابَكَ، وَإمَّا أنْ تَجِدَ مِنْهُ رِيحاً مُنْتِنَةً». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হল, কস্তুরী বহনকারী (আতরওয়ালা) ও হাপরে ফুৎকারকারী (কামারের) ন্যায়। কস্তুরী বহনকারী (আতরওয়ালা) হয়তো তোমাকে কিছু দান করবে অথবা তার কাছ থেকে তুমি কিছু খরিদ করবে অথবা তার কাছ থেকে সুবাস লাভ করবে। আর হাপরে ফুৎকারকারী (কামার) হয়ত তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাবে।’’
বুখারী ২১০১, ৫৫৩৪, মুসলিম ২৬২৮, আহমাদ ১৯১২৭, ১৯১৬৩, রিয়াদুস সলেহিনঃ ৩৬৭
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: الرَّجُلُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ، فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ
আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মানুষ তার বন্ধুর রীতি নীতির অনুসারী হয়। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকের খেয়াল রাখা উচিত সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে। (সুনান আবু দাউদ: ৪৯৩৩, আত-তিরমিযী: ২৩৭৮)
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ السَّاعَةِ، فَقَالَ مَتَى السَّاعَةُ قَالَ " وَمَاذَا أَعْدَدْتَ لَهَا ". قَالَ لاَ شَىْءَ إِلاَّ أَنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم. فَقَالَ " أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ ". قَالَ أَنَسٌ فَمَا فَرِحْنَا بِشَىْءٍ فَرَحَنَا بِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ ". قَالَ أَنَسٌ فَأَنَا أُحِبُّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ، وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ مَعَهُمْ بِحُبِّي إِيَّاهُمْ، وَإِنْ لَمْ أَعْمَلْ بِمِثْلِ أَعْمَالِهِمْ.
সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন, তুমি কিয়ামতের জন্য কি (পাথেয়) সংগ্রহ করেছ? সে বলল, কোন কিছুই সংগ্রহ করতে পারিনি, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কে (আন্তরিকভাবে) মহব্বত করি। তখন তিনি বললেন, তুমি (কিয়ামতের দিন) তাঁদের সাথেই থাকবে যাঁদেরকে তুমি মহাব্বত কর।
আনাস (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা দ্বারা আমরা এত আনন্দিত হয়েছি যে, অন্য কোন কথায় এত আনন্দিত হইনি। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মহব্বত করি এবং আবূ বকর ও উমর (রাঃ) কেও। আশা করি তাঁদেরকে আমার মহব্বতের কারণে তাদের সাথে জান্নাতে বসবাস করতে পারব; যদিও তাঁদের আমলের মত আমল করতে পারিনি।
সহীহ বুখারী (ইফাঃ) ৩৪২৩
وَعَنْ أبي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَفْضَلُ الْأَعْمَالِ الْحُبُّ فِي اللهِ وَالْبُغْضُ فِي اللهِ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ
আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : ‘আমলের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হল আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসা, আর আল্লাহর জন্যই কারো সাথে ঘৃণা ও শত্রুতা পোষণ করা।
আবূ দাঊদ ৪৫৯৯, য‘ঈফুত তারগীব ১৭৮৬, মিশকাতুল মাসাবিহঃ ৩২
وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: الرَّجُلُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ، فَليَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ رواه أَبُو داود والترمذي بإسناد صحيح، وَقالَ الترمذي: حديث حسن
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর হয়। অতএব তোমাদের প্রত্যেককে দেখা উচিত যে, সে কার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করছে।’’ (আবূ দাউদ, তিরিমিযী, বিশুদ্ধ সূত্রে)
তিরমিযী ২৩৭৮, আবূ দাউদ ৪৮৩৩, আহমাদ ৭৯৬৮, ৮২১২, রিয়াদুস সলেহিনঃ ৩৭১
খারাপ বন্ধুত্বের পরিণতিঃ
কিয়ামতের দিন অসৎ বন্ধুর জন্য আফসোস করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
يَٰوَيۡلَتَىٰ لَيۡتَنِي لَمۡ أَتَّخِذۡ فُلَانًا خَلِيلٗا لَّقَدۡ أَضَلَّنِي عَنِ ٱلذِّكۡرِ بَعۡدَ إِذۡ جَآءَنِيۗ وَكَانَ ٱلشَّيۡطَٰنُ لِلۡإِنسَٰنِ خَذُولٗا
‘হায়! আমার দুর্ভোগ! আমার আফসোস! যদি আমি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম। অবশ্যই সে আমাকে বিভ্রান্ত করেছিল আমার নিকট উপদেশ বাণী (কুরআন) পৌঁছার পর; আর শয়তান হল মানুষের জন্যে মহাপ্রতারক।’
সূরা আল-ফুরক্বানঃ ২৭-২৮
يَوْمَ لا يُغْنِي مَوْلًى عَنْ مَوْلًى شَيْئًا وَلا هُمْ يُنْصَرُونَ
সেদিন কোন বন্ধু অপর বন্ধুর কোনই কাজে আসবে না আর তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।
সূরা আদ্-দুখানঃ ৪১
مَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ حَمِيمٍ وَلا شَفِيعٍ يُطَاعُ
পাপিষ্ঠদের জন্য কোন অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে না আর কোন সুপারিশকারীর সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না।
সূরা আল-মুমিনঃ ১৮
وَلا يَسْأَلُ حَمِيمٌ حَمِيمًا
আর (সেদিন) অন্তরঙ্গ বন্ধু অন্তরঙ্গ বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করবে না।
সূরা আল-মা‘আরিজঃ ১০
الأخِلاءُ يَوْمَئِذٍ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ إِلا الْمُتَّقِينَ
সেদিন বন্ধুগণ হবে একে অপরের শত্রু তবে মুত্তাকীরা (আল্লাহভীরুরা) ছাড়া।
সূরা আয্-যুখরুফঃ ৬৭
وَإِنَّ الظَّالِمِينَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُتَّقِينَ
আর নিশ্চয় যালেমরা একে অপরের বন্ধু আর আল্লাহ হলেন মুত্তাকীদের (আল্লাহভীরুদের) বন্ধু।
সূরা আল-জাসিয়াঃ ১৯
বন্ধুত্বের সম্পর্ক যেহেতু আগে থেকে নির্ধারিত নয় এবং স্থায়ীত্বও নিশ্চিত করে বলা মুশকিল, তাই এ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন হয় আলাদা যত্নের। সেই সঙ্গে মাঝে-মধ্যে ভালোবাসা প্রকাশের।
মানসিকতার প্রভেদে বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ হয় ভিন্নরকম। কেউ মনে করেন, প্রয়োজনে পাশে থাকা কিংবা বিপদে সাহায্য করার নাম বন্ধুত্ব। এর জন্য আলাদা প্রকাশের কোনো প্রয়োজন নেই। কেউ মনে করেন, বন্ধুর সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর না রাখলে কি আর বন্ধুত্ব হয়!এ কারণে বন্ধুত্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কখনও মনে হয়, তার প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই। আর এটা ভেবে মনের ভেতরে কষ্ট পুষে রাখেন। আবার কখনও কারও কাছে বন্ধুত্ব হয়ে দাঁড়ায় অপ্রকাশ্য যন্ত্রণা।
কেউ ভাবেন, বন্ধু মানে খোলা খাতা। এ সম্পর্কে কোনো গোপনীয়তা নেই। নিজের সবটাই ভাগাভাগি করে নেওয়াই বন্ধুত্ব। আবার তারাই দু’দিন পর বলেন, বন্ধুত্ব মানে প্রতারণা, দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সুবিধা আদায় করা। কেউবা নিজের গোপনীয়তা বজায় না রাখায় নিজেকেই দোষারোপ করেন।
এবার আসুন, দেখি- ইসলাম বন্ধুত্বের সম্পর্কের ব্যাপারে কি বলেছে। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে কতটুকু সীমারেখা টেনে দিতে বলেছে।
ইসলামে অন্য সবকিছুর মতো এখানেও রয়েছে সুন্দর নির্দেশনা। এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘সবচেয়ে উত্তম হলো- প্রতি বিষয়ে মধ্যপন্থা। ’ –বায়হাকি, শোয়াবুল ঈমান: ৬৬৫১
এ হাদিসে মূলনীতি বলে দেওয়া হয়েছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মধ্যপন্থা উত্তম। বাড়াবাড়ি বা ছাড়াছাড়ি- কোনোটাই ইসলামের আদর্শিক পথ নয়। ঠিক তেমনি বন্ধুত্বও মধ্যপন্থার সীমারেখায় আবদ্ধ একটি সম্পর্ক।
এতো গেলো মূলনীতি। কিন্তু বন্ধুত্ব বা ভালোবাসার ক্ষেত্রে কেমন হওয়া উচিত, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনাও রয়েছে হাদিসে নববীতে।
ইরশাদ হয়েছে, ‘বন্ধুর সঙ্গে মধ্যপন্থী ভালোবাসা রাখো, হতে পারে সে একদিন তোমার শত্রুতে পরিণত হবে। তেমনি শত্রুর সঙ্গেও মধ্যপন্থী শত্রুতা রাখো, হতে পারে সে একদিন তোমার বন্ধুতে পরিণত হবে। ’ –সুনানে তিরমিজি: ২০৬৫
যদি কখনও বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়, তখনও ওই সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও পূর্ণ আমানতদার থাকার শিক্ষা দেয় ইসলাম। বন্ধুত্ব ভেঙে গেলে কোনো অযাচিত বিষয় প্রকাশ ও বিদ্বেষ পোষণ ইসলামে নিষিদ্ধ। আমানতের খেয়ানত যেমন মুনাফিকের লক্ষণ, তেমনি বিদ্বেষভাব মন্দ চরিত্রের লক্ষণ। উপরন্তু কোনোভাবে যদি বন্ধুর কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে জানা থাকা উচিত হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে কারও ক্ষতি করবে, আল্লাহ তার ক্ষতি করবেন। আর যে কারও প্রতি কষ্ট পৌঁছাবে আল্লাহ তার প্রতি কষ্ট পৌঁছাবেন। ’ –সুনানে তিরমিজি: ২০০৫
মোদ্দাকথা, ভালোবাসার মাঝেও প্রয়োজন মধ্যপন্থা। বন্ধুত্ব কিংবা ভালোবাসা গোপন না করা, আবার ভালোবাসা এতো বেশি প্রকাশ না করা- যাতে যন্ত্রণা পোহাতে হয়।
অর্থাৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেকে এতটা উজাড় না করা চাই, যেন পরে তা অস্ত্র হয়ে দাঁড়ায়। আবার এতটা অন্তর্মুখী হওয়াও বন্ধুত্বের জন্যে ক্ষতিকর, যা দূরত্ব তৈরি করে। মাঝে-মধ্যে প্রকাশ প্রয়োজন- যেন সম্পর্কটা সুন্দর হয়।
আমাদের প্যাকেজ এর লিংক: moonmarriagemedia.com/packages
সিভি/বায়োডাটা পাঠান এই ই-মেইলে: biodata@moonmarriagemedia.com
পছন্দের জীবনসঙ্গী/ জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পেতে বা বিয়ে সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে ফেসবুক পেইজে ইনবক্স করুন অথবা +8801716204097 নম্বরে কল/হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com